বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের নাটকীয় উন্নতিতে উত্তর-পূর্ব ভারত বড় সুবিধাভোগী বলে মন্তব্য করেছেন ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রহ্মণ্যম জয়শঙ্কর। তার দাবি, ভারত-বিভাজন উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রাকৃতিক সংযোগকে ভেঙে দিয়েছিল।
দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন। ভারতীয় বার্তাসংস্থা পিটিআইয়ের বরাত দিয়ে সোমবার (২৯ এপ্রিল) রাতে এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত বিভাজন বিভিন্ন উপায়ে দেশটির উত্তর-পূর্ব রাজ্যগুলোর প্রাকৃতিক সংযোগকে ভেঙে দিয়েছে বলে সোমবার মন্তব্য করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রহ্মণ্যম জয়শঙ্কর। তবে তার দাবি, গত এক দশকে কেন্দ্রীয় সরকারের নানা প্রচেষ্টা ওই এলাকার সম্পদের উন্নতি করেছে।
এনডিটিভি বলছে, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের কিরোরি মাল কলেজে ‘দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া এবং জাপানের সাথে উত্তর-পূর্ব ভারতের একীকরণ: অর্থনৈতিক বন্ধন এবং পরিবেশগত সংরক্ষণের ভারসাম্য’ শীর্ষক একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন এস জয়শঙ্কর।
সুব্রহ্মণ্যম জয়শঙ্কর বলেন, পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোর মধ্যে মিয়ানমার এবং তাইওয়ানের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে ভারতের সম্পর্কের উন্নতি গত এক দশকে নয়াদিল্লিকে বিশ্বের অন্যান্য অংশের সাথে সংযুক্ত করার কাজ দৃঢ় করেছে।
তিনি বলেন, দেশভাগ তথা ভারত বিভাজনের প্রভাব প্রাথমিকভাবে রাজনৈতিক বাধার পাশাপাশি প্রশাসনিক সমস্যার কারণে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উন্নতিকে প্রভাবিত করেছিল।
জয়শঙ্করের ভাষায়, ‘উত্তর-পূর্ব ভারতের যে প্রাকৃতিক সংযোগ ছিল বা যে সংযোগ এই অঞ্চল উপভোগ করত ভারত বিভক্তির ফলে তা অনেক উপায়ে ভেঙে গেছে। এর ফলস্বরূপ, উত্তর-পূর্বে যে মাত্রায় প্রবৃদ্ধি দেখা উচিত ছিল তা মন্থর হয়ে যায়। বিভাজনের পর প্রথম কয়েক দশকে দেশের অন্যান্য অংশগুলোর তুলনায় রাজনৈতিক বাধা এবং প্রশাসনিক সমস্যার কারণে উত্তর-পূর্বাঞ্চল সেভাবে কোনও সুবিধা পায়নি।’
ভারতের কেন্দ্রীয় এই মন্ত্রী আরও বলেছেন, ভারতের উত্তর-পূর্বে বর্তমান অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা একটি শক্তিশালী ফ্রন্টের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা যদি গত দশকের দিকে তাকাই, তাহলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের নাটকীয় উন্নতির জন্য বড় সুবিধাভোগী হয়েছে উত্তর-পূর্ব ভারত।
