ঢাকা, বাংলাদেশ   শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

জ্বালানি খাতের বর্তমান সংকটের জন্য ১৭ বছরের অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করলেন বাণিজ্যমন্ত্রী

জ্বালানি খাতের বর্তমান সংকটের জন্য ১৭ বছরের অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করলেন বাণিজ্যমন্ত্রী

পাট, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেছেন, দেশে জ্বালানি খাতের বর্তমান সংকটের মূল কারণ বিগত ১৭ বছরের সরকারের চরম অব্যবস্থাপনা। এই মুহূর্তে সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো জ্বালানি সংকট মোকাবিলা করা।

সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে জেলা প্রশাসন আয়োজিত আলোচনা সভা এবং শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আজ এসব কথা বলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আমদানিকৃত গ্যাসের ওপর বেশি নির্ভরশীল। দেশের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে এবং নতুন বিনিয়োগ আনতে সরকারকে কিছুটা সময় দিতে হবে। এই প্রক্রিয়া চলাকালীন স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কিছুটা ব্যাহত হলেও সার্বিক স্বার্থে তা মেনে নেওয়ার জন্য তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

উন্নয়নকে একটি সম্মিলিত প্রয়াস উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, তারুণ্যের শক্তি যেন সামাজিক শক্তি হিসেবে টিকে থাকে এবং কোনোভাবেই যেন এটি বিনষ্ট না হয়, কেননা এটি দেশকে এগিয়ে নেওয়ার অন্যতম পূর্বশর্ত। আগামী দিনের কাক্সিক্ষত নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে তরুণদের এই শক্তিকে সঠিকভাবে কাজে লাগাবে সরকার।

অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে জুলাই যোদ্ধারা সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে অবমূল্যায়িত হওয়ার অভিযোগ তোলেন। জুলাই যোদ্ধা লিটন আহমদ পর্যাপ্ত মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জুলাইয়ের মামলাগুলোর দ্রুত অগ্রগতির দাবি জানান।

অনুষ্ঠানে শহীদ পাভেলের বাবা মন্ত্রীকে গোলাপগঞ্জের সাত শহীদের কবর জিয়ারতের অনুরোধ জানান। এছাড়া শহীদ সাংবাদিক এ টি এম তুরাবের ভাই জাবুর আহমদ বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করেন।

এ সময় সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম এ মালিক বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছে। জুলাই যোদ্ধারা জাতির গর্বিত সন্তান, তাদের কোনোভাবেই অবমূল্যায়ন করা যাবে না।

সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীমসহ স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভা শেষে ১৪টি শহীদ পরিবারকে সংবর্ধনা ও আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়।